মেজর লিগ বেসবলের (এমএলবি) বাণিজ্যের শেষ সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্লে-অফের দৌড়ে থাকা দলগুলোর চোখ সেন্ট লুইস কার্ডিনালসের দুই ডানহাতি পিচারের দিকে। ২৮ বছর বয়সী ডারস্টিন মে এবং ৩৫ বছর বয়সী রাইন স্ট্যানেক উভয়ের চুক্তির মেয়াদই শেষ হতে চলেছে, যা তাদেরকে সম্ভাব্য ফ্রি এজেন্ট হিসেবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশ্ব সিরিজ শেষে তারা উভয়েই মুক্ত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেতে পারেন।
ডারস্টিন মেকে একজন বড় পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুরুর সারির এই পিচার এক বছরের ১ কোটি ২৫ লাখ ডলারের চুক্তিতে আবদ্ধ রয়েছেন। বর্তমান মৌসুম শেষে তাকে দলে টানতে চাইলে নতুন দলকে শেষ দুই মাসের বেতন বহন করতে হবে। ক্যারিয়ারে ৭৮টি ম্যাচ শুরু করে ২৪-২৭ জয়-পরাজয়, ৩.৯৯ ইআরএ এবং ১.২২ হুইপের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। সেন্ট লুইসের হয়ে ২১টি শুরুতে তার পারফরম্যান্স ৫-৭ জয়-পরাজয়, ৪.৩৮ ইআরএ ও ১.২৮ হুইপ। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বৈচিত্র্যময় পিচিং কৌশল। তিনি ৯৬.৩ গতির ফোর-সিম ফাস্টবল, ৯৬.৮০ মাইলের সিঙ্কার, ৯০.৩৪ মাইল গতির চেঞ্জআপ, ৮৬.৩৪ মাইলের স্লাইডার, ৮৪.১২ মাইলের কার্ভ এবং ৯৩.৬১ মাইল গতির কাটার নিক্ষেপ করে থাকেন। ছয় ধরনের পিচের এই সমৃদ্ধ অস্ত্রভান্ডার দিয়ে তিনি ব্যাটারের চোখের লেভেল পরিবর্তন ও ভারসাম্য নষ্ট করতে দক্ষ। তার ফোর-সীম ফাস্টবল ব্যবহারের হার ২৭.১৯%, সিঙ্কার ১৯.৩০%, কাটার ২২.৫৯%, স্লাইডার ১৮.৮৬%, চেঞ্জআপ ৬.১৪% ও কার্ভ ৫.৯২%।
অপরদিকে, অভিজ্ঞ রিলিফ পিচার রাইন স্ট্যানেক দলের বুলপেনে উচ্চ-চাপের পরিস্থিতিতে মূল্যবান সহায়তা যোগাতে পারেন অথবা দরকারে শুরুতে নামতে পারেন। দশ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ৫৬টি ম্যাচ শুরু করেছেন। এই মৌসুমে ৪৭টি রিলিফ অ্যাপিয়ারেন্সে তার পরিসংখ্যান ২-২ জয়-পরাজয়, ৪.২৫ ইআরএ এবং ১.৪৪ হুইপ। ৩৫ লাখ ডলারের এক বছরের চুক্তিতে খেলা স্ট্যানেকের চুক্তিতে ২০২৭ সালের জন্য একটি দলীয় অপশন রয়েছে, যা তার বাণিজ্য মূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়। ব্রুকসবেসবলের তথ্যমতে, তার গতিময়ী অস্ত্রগুলোর মধ্যে আছে ৯৭.৪৪ মাইল গতির ফাস্টবল, ৮৭.৯৩ মাইল গতির স্লাইডার এবং ৮৯.৪৮ মাইল গতির স্প্লিট-ফিঙার। টাম্পা বে রেইজ, মিয়ামি মার্লিন্স, হিউস্টন অ্যাস্ট্রোস, সিয়াটল মেরিনার্স ও নিউ ইয়র্ক মেটসহ লিইগের বিভিন্ন দলের হয়ে খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা তার ঝুলিতে রয়েছে।
ডার্িন মে-র সর্বশেষ ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই শিকাগো কাবসের বিরুদ্ধে কার্ডিনালসের অতিরিক্ত ইনিংসের জয়, যেখানে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত লাভ করেননি। আগস্টের ৩ তারিখের বাণিজ্যের শেষ সময়ের আগে তার আর কোনো শিডিউল্ড ম্যাচ নেই। ২০১৬ সালের এমএলবি ড্রাফটের তৃতীয় রাউন্ডে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্স বাছাই করে এবং নির্ধারিত বোনাসের অনেক বেশি ১০ লাখ ডলার স্বাক্ষর বোনাস প্রদান করে। তার ৯৩-৯৪ মাইল গতির ফাস্টবল ছিল এই বাড়তি মূল্যের বড় কারণ।
স্ট্যানেকের ক্ষেত্রে, ২০১০ সালের ড্রাফটে সিয়াটল মেরিনার্স তৃতীয় রাউন্ডে তাকে বাছাই করলেও তিনি ৮০ হাজার ডলার স্বাক্ষর বোনাস প্রত্যাখ্যান করে আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ড্রাফটের প্রথম রাউন্ডে ২৯তম পিকে তাম্পা বে রায় তাঁকে বেছে নেয় এবং ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩শ ডলারেও চুক্তিবদ্ধ হয়। ডার্স্টিন মে-র মতো তাকেঁই এখন বাণিজ্যের শেষ সময়ের বাজারে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।




