মাঠের বাইরে ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য তার দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য। ফ্রান্সের জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ৫৪ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি স্ত্রী ভেরোনিকের সঙ্গে বিবাহবার্ষিকীর ৩২ বছর অতিক্রম করলেন। প্রচারের আলোক থেকে সজ্ঞান দূরত্ব বজায় রাখা এই দম্পতির পারিবারিক জীবন তাদের ক্যারিয়ারের মতোই চর্চিত। ২০২৪ সালে ত্রিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একটি বিশেষ আয়োজনে তাঁরা আবারও বৈবাহিক শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

ভেরোনিক ফার্নান্দেজ লেন্তিস্কো ১৯৭০ সালে ফ্রান্সের দক্ষিণের শহর রোদেজে জন্মগ্রহণ করেন। স্পেনের আন্দালুসিয়া থেকে ফ্রান্সে পাড়ি জমানো অভিবাসী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার মধ্যে স্প্যানিশ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব বিদ্যমান। নৃত্যের প্রতি অদম্য আগ্রহের টানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের পড়ালেখা ছেড়ে তিনি ভর্তি হন কান শহরের মর্যাদাপূর্ণ রোসেলা হাইটাওয়ার ড্যান্স স্কুলে। ১৯৮৯ সালে সেই প্রতিষ্ঠানেই প্রথমবারের মতো জিদানের সঙ্গে তার দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই ভেরোনিকের প্রতি আকৃষ্ট হলেও লাজুক স্বভাবের জিদান কথা বলার সাহস পেতে কয়েক মাস সময় নেন। অবশেষে একটি সাধারণ ‘হ্যালো’ দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁদের প্রণয়ের।

পাঁচ বছর দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক শেষে ১৯৯৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। তখনও জিদানের খ্যাতির সূচনা হয়নি; বিশ্বকাপ, ব্যালন ডি’অরের মতো সাফল্য বা বিশ্বজোড়া পরিচিতি সবকিছুই আসে পরে। তাই সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ আন্তরিকতা আর পারস্পরিক বোঝাপোকার ওপর। ভেরোনিক নিজের নৃত্য জীবনের সম্ভাবনাকে পাশে সরিয়ে রেখে সংসার ও স্বামীর ফুটবল ক্যারিয়ারকে সর্বাগ্রে স্থান দেন।

এই তারকা দম্পতির চার পুত্রসন্তান রয়েছে—এনজো, লুকা, থিও ও ইলিয়াজ। প্রত্যেকেই পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও বড় ছেলে এনজো বর্তমানে অবসরে গেছেন। বাকি তিন ভাইয়ের মধ্যে লুকা সম্প্রতি জিদানের আদি নিবাস আলজেরিয়ার জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভেরোনিক তাঁর স্বামীর পেশাগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত। জিদান বারবারই বলেছেন, জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়গুলোতেও স্ত্রীই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় অবলম্বন।

২০১৩ সালে স্বামী-স্ত্রী ভেরোনিকের জন্মস্থান রোদেজ ভ্রমণে যান। সেখানে আর্থিক সংকটে ভোগা স্থানীয় ক্লাব রোদেজ অ্যাভেরোঁ এফসি-র সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাঁরা। আর্থিক অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সমর্থন জ্ঞাপন করেন। খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় তারা বরাবরই অটল। ভেরোনিকের কোনো যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নেই। বর্তমানে নাতি-নাতনির মুখ দেখার আনন্দও উপভোগ করছেন এই জুটি। দীর্ঘ ও সুখী সংসারের রহস্য প্রসঙ্গে স্প্যানিশ ম্যাগাজিন ‘হোলা’র কাছে ভেরোনিকের সরল ব্যাখ্যা, ‘পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, এটাই সব। আমরা আজীবন একসঙ্গে থাকতে চাই।’