যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মির্জা ফাহিম আহমেদ নামের ২৭ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটে, ভ্যালি এলাকার ল্যাসেন স্ট্রিট ও রেসিডা বুলেভার্ড সড়কের সংযোগস্থলে।

প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, ফাহিমের গাড়িটি অন্য দুটি গাড়ির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ফাহিম ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। ব্যাপক চেষ্টার পর তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু ঘটে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্য দুটি গাড়ির চালকও আহত হয়েছেন; তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফাহিম প্রায় দেড় বছর আগে মা, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তাঁদের মূল বাড়ি ঢাকার জিগাতলা এলাকায়। সম্প্রতি ঈদুল আজহার সময় বাংলাদেশে এসে তিনি বিয়ে করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইমিগ্রেশনে আবেদনও করেছিলেন তিনি।

নিহতের এলাকার বাসিন্দা ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আতাউর রিপন বলেন, "দেশ থেকে ফিরেই ফাহিম তাঁর স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর প্রাণ গেল। আমরা সবাই এ ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত ও বেদনাক্রান্ত।"

ফাহিমের ছোট ভাই মির্জা তামিম জানান, স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এরপরই জানাজা ও দাফনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশও ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।