সরকার ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশনের সুবিধা পাচ্ছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, এনএসআই, এসএসএফ, দুদক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ বাহিনীর চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দে থাকে ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল ও ২ কেজি চিনি।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় করতে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, মূল্যবৃদ্ধি ও বিভিন্ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ধারদেনা ও ঋণের কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে, যা দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। রেশন চালু হলে এই চাপ কমবে এবং কাজে মনোযোগ বাড়বে।

প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত জুনে পাঠানো চিঠিতে তিন মাস পর অগ্রগতি উপস্থাপনের জন্য বৈঠকের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে। অর্থ বিভাগের সম্মতি মিলেছে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন জানিয়েছেন, ডিসি সম্মেলনের উন্নয়ন কার্যক্রম বই আকারে প্রকাশ করছে বিজি প্রেস। সংশ্লিষ্টদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া হবে এবং প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তাঁর মতে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মীদের জীবন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকে সুযোগ-সুবিধার অভাবকে দুর্নীতির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেন। রেশন চালু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি মনে করেন। তবে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়ম হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হতে পারে।

রেশন সুবিধার আওতায় আসা ১২তম গ্রেডের মধ্যে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরের মতো পদ রয়েছে। অন্যদিকে, ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, পিয়ন, মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। ওই সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশনের পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এর পর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।