সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর ও দুই হাতে অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম গোলাম রসুল শেখ (৩৮), যিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা গেছে। গত ১০ আগস্ট বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর গত শনিবার ভুক্তভোগীর বড় ভাই আবদুল গফুর শেখ বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন—একই গ্রামের জিম হোসেন (২২), মনি (৩৫), পপি খাতুন (৪২) ও সেকেন্দার আলী (৬২)। তাঁরা সবাই ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী।
মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের সঙ্গে গোলাম রসুলের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি ওই এলাকায় আসামিদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে তাঁরা পথ আটকিয়ে তাঁকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এরপর লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে তাঁর দুই হাতে অ্যাসিড ছিটানো হলে হাতের চামড়া পুড়ে যায়। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গোলাম রসুলকে খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় কয়েকজন পাইপ দিয়ে মারছে। তবে ভিডিওতে অ্যাসিড ছিটানোর দৃশ্য ধরা পড়েনি। কবে ও কার মোবাইলে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর প্রথমে ভুক্তভোগীকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করানো হচ্ছিল বলে জানান তাঁর বড় ভাই। পরে ১২ আগস্ট তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার দাস বলেন, হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর দুই হাতে পোড়া দাগ ও পায়ে ক্ষত রয়েছে বলে জানান তিনি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই আবদুল গফুর শেখ বলেন, তাঁর ভাই বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেলের চারতলায় চিকিৎসাধীন। তবে কোন চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা করছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার ভাইয়ের অবস্থা ভালো না। চিকিৎসকেরা তার হাতে অপারেশন করার কথা বলেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। সে কোনো অপরাধ করলে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। এভাবে কেউ আইন হাতে তুলে নিয়ে একজন মানুষের গায়ে অ্যাসিড ঢেলে দিতে পারেন না। আমি ১৫ আগস্ট মামলা করেছি। কিন্তু পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার প্রধান আসামি জিম হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে একজন নারী ফোন ধরেন। তিনি দাবি করেন, গোলাম রসুল প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে এসে হামলা ও ঝামেলা করতেন। তবে তাঁকে মারধর করা হয়নি এবং তাঁর হাতে অ্যাসিডও দেওয়া হয়নি। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, এজাহারে অ্যাসিড ছিটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে নিশ্চিত হতে রাসায়নিক পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের মতামত প্রয়োজন। চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দাহ্য পদার্থের কারণে এমন ক্ষত হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং আসামিরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




