মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিচারক আলবিরুনী মীর একটি আদেশ জারি করেন। ওই আদেশ অনুসারে, তেজগাঁও থানার শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে স্থানীয়ভাবে ‘হাতকাটা কাশেম’ নামে ডাকা হয়। শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন জামিনের পক্ষে আবেদন জানান; বিপরীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল হান্নান আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
তদন্তকারী প্রথম আলোকে জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দ্রুতই একটি রিমান্ড আবেদন দাখিল করা হবে, যাতে আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, আবুল কাশেম এজাহারভুক্ত ৪৯ নম্বর আসামি। সামগ্রিকভাবে এই মামলায় ১০৮ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মো. বেল্লাল হোসেন তেজগাঁও থানায় এজাহার দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রের বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। সেই সময় বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে দলটির তৎকালীন চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সেখানে উপস্থিত ছিল। ওই সময় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টি করে, হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রসহ আক্রমণ চালায়, ভাঙচুর করে এবং একাধিক ব্যক্তিকে মারাত্মকভাবে আহত করে—এমনটাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক তদন্ত ও বিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৯ নম্বর আসামি আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গত সোমবার কাওরান বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারী আদালতকে স্পষ্টভাবে জানান, মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উন্মোচন এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার স্বার্থে আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য। এই প্রয়োজনে আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তদুপরি, তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য থেকে আরও জানা যায় যে, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে তেজগাঁও, গুলশান ও মানিকগঞ্জ সদর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে এবং হত্যাচেষ্টা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের মাধ্যমে এখন তদন্তকারী দল পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে রিমান্ড আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।




