লোকসংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে চেক ডিজঅনারের আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মো. সাদিক আহমেদ এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সকালে কারাগার থেকে মুজিব পরদেশীকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই, মামলা হয়েছে, ভালো।’
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে বাদী মুজিবুর রহমানের ছোট ভাই মো. সোলায়মান সরদারকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলে মুজিব পরদেশী মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। এরমধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার এবং নগদে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে সোলায়মানকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হলে বাদী টাকা ফেরত দাবি করেন। তখন মুজিব পরদেশী ২ লাখ ২০ হাজার টাকার দুটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে চেক দুটি জমা দিলে ‘ফান্ড অপর্যাপ্ত’ উল্লেখ করে তা একাধিকবার ফেরত আসে।
বাদী একাধিক আইনি নোটিশ পাঠালেও অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ২০০৪ সালের ১ জুন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়। মামলার নথিতে আরও অভিযোগ আছে, সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন মুজিব পরদেশী। তবে মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ নেই, তিনি একাই এ মামলার আসামি।
এর আগে ৫ আগস্ট ১০ লাখ টাকার আরেকটি চেক ডিজঅনার মামলায় মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই মামলায় ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে মামলা করেন ইদ্রিস আলী বিশ্বাস। ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। সেই মামলার রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে।




