শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী কাজী শাফায়েতের রোপণ করা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ পার্কিং স্লট নির্মাণের নামে কেটে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে। সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষ্ণচূড়াগাছটির কাটা ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। শুধু মূল কাণ্ডটি দাঁড়িয়ে আছে।
২০২৪ সালের ১৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটির মাধ্যমে একটি চারা এনে রোপণ করেছিলেন কাজী শাফায়েত। তিনি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালে ডি-বিল্ডিংয়ের এক্সটেনশনের সামনে তিনি এই কৃষ্ণচূড়াগাছটি রোপণ করেছিলেন। নিয়মিত পরিচর্যার কারণে গাছটি অনেক বড় ও সুন্দর হয়েছিল।
শাফায়েত জানান, গাছটির কাছে গেলে তার খুব ভালো লাগত। তিনি বলেন, 'আজ আমার পড়াশোনা শেষ। আর গাছটাও শেষ। আমার খুব খারাপ লাগছে। কী অপরাধ ছিল গাছটার?' তিনি জানান, সাইকেল ও মোটরসাইকেলের পার্কিং স্লটের নির্মাণকাজের জন্য গাছটির মূল কাণ্ড ছাড়া পুরোটাই কেটে ফেলা হয়েছে। চাইলে ছাউনিটি একটু সরিয়ে দেওয়া যেত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাস্টিয়ানদের কাছে বিচার চেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক চৌধুরী জানান, সাইকেল স্ট্যান্ড বানানোর কারণে গাছটির কিছু ডালপালা পার্কিং স্লটের শেডের মধ্যে পড়েছিল। ঠিকাদার ফোন দিলে শুধু স্লটের সঙ্গে যুক্ত গাছের ডালটি কেটে ফেলার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মিস্ত্রি নিজের মনগড়ামতো কেটে ফেলেছে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো গাছ কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
ইমদাদুল হক চৌধুরী আরও জানান, ঠিকাদার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১০টি গাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই ধরনের ভুল যাতে আর না হয়, সেজন্য ঠিকাদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূসম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার প্রধান আবুল হাসনাত বলেন, গাছটি কে বা কারা কেটেছে তা তাদের জানা নেই। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান। তিনি বলেন, 'গাছটি কেটে ফেলা সত্যই দুঃখজনক। আমিও নিয়মিত গিয়ে দেখতাম। গাছটি সুন্দর ছিল।'
শিক্ষার্থী কাজী শাফায়েতের অভিযোগ, তিনি কাজের লোকদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, একজন প্রকৌশলী নাকি কাটতে বলেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।




