বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে অপ্রীতিকর এক ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক শিক্ষার্থী আহমেদ শাহারিয়ার অভিযোগ, একই হলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ তাকে ওয়াশরুমে যেতে বাধা দেয়, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে এবং শারীরিকভাবে মারধর করে। সোমবার রাতে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। শাহারিয়ার জানান, রাত ১২টার পর তিনি গেস্টরুমের পাশের ওয়াশরুমে যেতে চাইলে মাহফুজ তাকে বাধা দিয়ে অন্য ওয়াশরুমে যেতে বলে। সেটি বন্ধ দেখে ফিরে এসে মাহফুজের কাছে কারণ জানতে চাইলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। শাহারিয়ারের অভিযোগ, মাহফুজ তার শিক্ষাবর্ষ জিজ্ঞেস করে বলে, "তুই আমার রুমে আসিস, তোকে ম্যানার শিখাব" এবং সারা রাত ওয়াশরুমে যেতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে গালিগালাজ ও মারে ধরে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। তিনি পরে জানতে পারেন, ওই ওয়াশরুমে মাহফুজের নারী অতিথি খেলা দেখতে এসেছিলেন, কিন্তু তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মাহফুজ। তাঁর দাবি, খেলা দেখতে আসা তাঁর নারী অতিথিরা ওয়াশরুম ব্যবহার করছিলেন, তাই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি ও আরেক শিক্ষার্থী বাইরে অবস্থান করছিলেন। শাহারিয়ার এলে তাকে দুই মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু শাহারিয়ার আপত্তি জানিয়ে বলেন, এত রাতে হলের গেস্টরুমে মেয়ে আসা ঠিক নয়। পরে হাত ধরে বোঝাতে গেলে শাহারিয়ার হাত সরিয়ে দেয় এবং তুই-তোকারি শুরু করে। শিক্ষাবর্ষ জেনে তিনি জুনিয়র হিসেবে তুই সম্বোধন করেন। ওই সময় অতিথিরা বেরিয়ে গেলে বিষয়টি শেষ হয়। মারধর বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা তিনি অস্বীকার করেন। বরং দাবি করেন, উল্টো তাঁকেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম আলী রেজা জানান, প্রথমে হাউস টিউটরদের নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসায় তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হন। কমিটিকে চার কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছেন বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদ। তিনি শাহারিয়ারকে শারীরিক ও মৌখিক লাঞ্ছনার অভিযোগও জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ দাবি করেছেন, মাহফুজের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় মাহফুজ সাদিক কায়েমের সমর্থক ছিলেন এবং নির্বাচনের পর সিনেট ভবনে স্লোগান দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। অভিযোগকারী শাহারিয়ার নিজেও বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য বলে তানভীর আল হাদী মায়েদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন।