বাংলার ঐতিহ্যবাহী গামছা, যা মূলত গা মোছার কাজে ব্যবহৃত হতো, এখন ফ্যাশন জগতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। সাধারণ নকশা, উজ্জ্বল রং ও দেশীয় আবহ মিলিয়ে গামছা তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সময়ের পরিক্রমায় এই ঐতিহ্যবাহী কাপড় আধুনিকতার ছোঁয়ায় তৈরি করছে নিজস্ব পরিচয়।
যাত্রা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতেনান মোহাম্মদ জাকি জানান, গামছার শাড়ি তৈরিতে সিরাজগঞ্জের তাঁতিদের বুনন পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও এতে তুলনামূলক মোটা সুতার ব্যবহার করা হয়। ফলে পোশাকটি টেকসই হয়। এছাড়া গামছার জ্যাকেটে মোম বাটিকের নকশার ওপর কাঁথাস্টিচের কাজ করা হচ্ছে।
গামছার তৈরি শাড়ি পরতে যেমন সহজ, তেমনি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও উপযোগী। শাড়ির পাশাপাশি গামছার জ্যাকেট, জাম্পস্যুট ও ব্যান্ডানাও তরুণদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। রিংকি'স অ্যাটায়ারের স্বত্বাধিকারী রেহমুমা হোসেন মাগুরার তাঁতিদের কাছ থেকে সংগৃহীত কাপড় দিয়ে কো-অর্ড জ্যাকেট ও প্যান্ট তৈরি করছেন। তার তৈরি পোশাক যেমন আরামদায়ক, তেমনি টেকসই বলেও তিনি জানান।
চুলের অনুষঙ্গেও গামছার কাপড়ে মোড়া নানা ধরনের পুঁতি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজেদের স্টাইলে স্বকীয়তা আনতে তরুণ প্রজন্ম গামছার এসব উপাদান বেছে নিচ্ছে। ফ্যাশন-চর্চায় গামছা এখন নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। দেশীয় শিল্প ও ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন তরুণদের কাছে বেশ সাড়া ফেলেছে।




