বয়স ৪৮ পেরিয়েও বিশ্বব্যাপী তারকা শাকিরা মঞ্চে টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাচ ও গানের মাধ্যমে দর্শক মাতিয়ে রাখতে সক্ষম হন। তার এই অসামান্য প্রাণশক্তি আকস্মিক নয়; বরং দীর্ঘদিনের সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার ফল। নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক সুস্থতার প্রতি মনোযোগই তাকে ফিট রাখার মূল চাবিকাঠি।
পুষ্টির ক্ষেত্রে শাকিরা বিশ্বাস করেন, সুস্থ থাকতে হলে শরীরকে পুষ্টি দিতে হবে, ক্ষুধার্ত রাখা নয়। তার খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের উৎস হিসেবে মাছ, ডিম ও মুরগির মাংস রয়েছে। শাকসবজি ও তাজা ফল রাখেন নিয়মিত। স্বাস্থ্যকর চর্বির জন্য অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল ও বাদাম খান। তিনি অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলেন। একবারে বড় মাত্রায় না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে খান, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
শরীরচর্চায় বৈচিত্র্য বজায় রাখেন শাকিরা। ওয়েট ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে পেশি মজবুত রাখেন, যা বার্ধক্যের সাথেও বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। তার প্রধান কার্ডিও ব্যায়াম হলো নাচ, বিশেষ করে লাতিন নাচ ও বেলিড্যান্স। এছাড়া দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো ও সাইক্লিং করেন। মঞ্চে ভারসাম্য বজায় রাখতে কোর শক্তিশালী করার জন্য প্ল্যাঙ্ক ও স্ট্যাবিলিটি অনুশীলন করেন। প্রতিটি ওয়ার্কআউটের আগে ও পরে নিয়মিত স্ট্রেচিং করেন, যা পেশির চাপ কমায় ও আঘাতের ঝুঁকি হ্রাস করে।
শাকিরার ফিটনেস দর্শনের প্রধান ভিত্তি হলো ধারাবাহিকতা। তিনি মনে করেন, একদিন অতিরিক্ত পরিশ্রমের চেয়ে প্রতিদিন কিছু না কিছু করা জরুরি। তাই তিনি সময়মতো ঘুমান, পর্যাপ্ত পানি পান করেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য সময় বের করেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও তিনি সমান গুরুত্ব দেন। পরিবার ও সন্তানের জন্য সময় দেওয়া এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তকে প্রাধান্য দেন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ক্লান্তি ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন শতভাগ নিয়ম মানা সম্ভব নয়। কোনো দিন ব্যায়াম বাদ পড়লে বা প্রিয় খাবার খেলে তা নিয়ে হতাশ না হয়ে পরের দিন আবার রুটিনে ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ। তার মতে, ফিটনেস একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা, যেখানে নিজের শরীরকে ভালোবাসা ও যত্ন নেওয়াই মূল লক্ষ্য। আয়নার সামনে নিজের সাথে লড়াই নয়, বরং নিজের শরীরের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলাই প্রকৃত সাফল্য।
শাকিরার জীবনের এই শিক্ষাগুলো প্রমাণ করে, ফিটনেস ক্ষণস্থায়ী চ্যালেঞ্জ নয়; এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসের সমষ্টি। নিজেকে ভালোবাসা ও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমেই দীর্ঘ সময় সক্রিয় ও প্রাণবন্ত থাকা সম্ভব।




