ই-সিগারেট, ভ্যাপিং ও মাদকের ক্রমবর্ধমান ভয়াবহতা থেকে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে পরিবার এবং সমাজের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মাদকবিরোধী অনলাইন সহায়তা সভায় তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ২০২৬ সালের ২০ মে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম এ সভার আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়ার নিরাপদ বা কার্যকর বিকল্প নয়’।
সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কিশোর-কিশোরীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে একাধিক কৌশলগত পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, শুধু উপদেশ দিয়ে নয়, বরং সন্তানদের মধ্যে আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস জোরদার করাই হলো প্রাথমিক কর্তব্য। ছোট ছোট ভালো কাজের জন্য তাদের নিয়মিত প্রশংসা করতে হবে, যার ফলে তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠবে। এ প্রসঙ্গে তিনি সামাজিক ও আবাসন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্ট বা আবাসিক ভবনে কিশোর-কিশোরীদের জন্য ক্যারামবোর্ড, ব্যাডমিন্টন বা ইনডোর গেমসের মতো সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক।
পাশাপাশি, শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, ঘরের একটি ছোট অংশেও যেন একটি পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। তাঁর ভাষায়, ‘যদি বইয়ের প্রতি সন্তানদের আকর্ষণ বাড়াতে পারা যায়, তাহলে সন্ধ্যা নামলেই তারা মোবাইল ফোন হাতে না নিয়ে বইয়ের পাতায় নিজেদের নিমজ্জিত করবে।’
অধিকন্তু, মাদকের বিস্তার রোধে রাষ্ট্রীয় নজরদারি আরও জোরদার করার কথা বলেছেন এ মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি মনে করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে রাসায়নিক পরীক্ষার পাশাপাশি বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠতে হবে, যাতে শিশুরা কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর বা ‘টক্সিক ইনফরমেশন’-এর মাধ্যমে প্রভাবিত না হয়।




