রাজধানীর নগর সমস্যা সমাধানে বিদ্যমান কাঠামোর পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত বুধবার গুলশানের নগর ভবনে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার, আপনার, সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ অন্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, নগর পরিচালনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত থাকলেও ট্রাফিক পুলিশ, ওয়াসা, রাজউক ও বিদ্যুৎ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো করপোরেশনের অধীন নয়। ফলে যেকোনো সমস্যার জন্য মেয়র বা প্রশাসককে দায়ী করা হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিন ধরে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ বা নগর সরকার ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠছে। তাঁর মতে, সব সংস্থা সিটি করপোরেশনের আওতায় এলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডাকলেও সব সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন না, আবার কাউকে বাধ্য করার আইনি ক্ষমতাও নেই। এই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে শুধু সভা-সেমিনারের মাধ্যমে প্রত্যাশিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে সরকার বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ২০২৮ সালের জুলাই-আগস্ট নাগাদ ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জৈব সার, মাছ ও মুরগির খাদ্য, জ্বালানি তেল ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন করবে। এসব প্রকল্পে সরকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজধানীর জলাশয় ও খাল দূষণের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় পাইপলাইনের অভাবে মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে। বর্তমানে হাতিরঝিল, গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার পয়োনিষ্কাশন লাইন ওই শোধনাগারের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় ক্ষুদ্র পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী নগরবাসীর আচরণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শুধু সরকার বা সিটি করপোরেশনের পক্ষে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার অভ্যাস দূর করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ সংক্রান্ত বিষয় সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে রাজধানীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়েক শ বছরের পুরোনো অপরিকল্পিত নগরীকে অল্প সময়ে পরিকল্পিত করে তোলা সহজ নয়। তবে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সবার দায়িত্বশীল আচরণেই রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা সম্ভব।



