জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, অতীতের সরকারগুলো মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা তৈরিতে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য দিয়েছিল। বর্তমান সরকার সে ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি নিবিড় গবেষণাভিত্তিক সম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করবে। বুধবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিএনপির সাংসদ রুহুল আমীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সব শহীদদের একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা তাদের আত্মত্যাগের সঠিক স্বীকৃতি দেবে।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া, যিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাই এই দলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি পবিত্র দায়িত্ববোধ থেকেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির এই প্রচেষ্টা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ চালুর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রাথমিক স্তরের ছেলে-মেয়েদের ফুটবল ম্যাচে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আগামী বছর থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক স্তরেও সম্প্রসারিত হবে। বিএনপির সংসদ সদস্য এ বি এম মোশররফ হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে একটি স্টল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই বিদ্যালয়ে তেরো শত শিক্ষার্থী থাকলেও কোনো খেলার মাঠ নেই। এ ধরনের অভিযোগ তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

রাজধানীর পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন খেলার মাঠ ও পার্কগুলো থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, দেশের সব জায়গায় খেলার জন্য উন্মুক্ত স্থান চিহ্নিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই খেলাধুলার মানোন্নয়ন চেষ্টা করছে এবং অনেকাংশে সফলতাও এসেছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, ২০১০ সালে বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং ছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ মেট্রিক টনে। একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ১৩ লাখ টিইইউএস থেকে বেড়ে ৩৪ লাখ টিইইউএস হয়েছে। সরকার বে টার্মিনাল বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে, যা চালু হলে মাদার ভেসেল সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে এবং ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় কমে আমদানি-রপ্তানি ত্বরান্বিত হবে। এতে জাতীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ধীরে ধীরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা সরকারের।