রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার ডিএনসিসি আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার, আপনার, সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘এ জায়গায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামী নয়, বরং বাংলাদেশকে দেখতে চান তাঁরা।’ অর্থসংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সবাই নিয়ম মেনে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ৫০ বছরে অসংখ্য সেমিনার ও কর্মশালা হলেও এখন সবচেয়ে জরুরি দায়িত্বশীল আচরণ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কাজটা কিন্তু একটাই যে আমার শহর আমি পরিষ্কার রাখব। আমার কাজটা আমি করি। লেট মি ডু মাই জব। আমারটা আমি পরিষ্কার করি, তাহলে সব পরিষ্কার হবে।’ শহরের জনসংখ্যা ও বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়লেও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস এখনো গড়ে ওঠেনি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য পরিবার থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। টেলিভিশন ও বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বানও জানান তিনি।
ঢাকার প্রাকৃতিক খাল দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। যেসব খাল এখনো টিকে আছে, সেগুলো উদ্ধার, পরিষ্কার এবং নদীর সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তুরাগসহ আশপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। নদী ও খাল রক্ষা করা না গেলে ঢাকার পরিবেশগত সংকট আরও গভীর হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদী পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে মেঘনা নদী থেকে পানি আনার প্রকল্পও এগিয়ে চলছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় ও অর্থ—দুটোরই প্রয়োজন বলে জানান তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সবাই নিয়ম মেনে চললে এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

