ছাগল- কাণ্ডে ব্যাপক আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর কর্ণধার ইমরান হোসেনকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান জানান, আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। ইমরান হোসেন এরই আগে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৩৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়, এবং তিনি তখন থেকেই বন্দী রয়েছেন।

আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক রানা রায় গত ৩১ জুলাই ইমরান হোসেনকে এই হত্যাচেষ্টা মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সে দিন আসামিকে উপস্থিত রেখে শুনানি অনুষ্ঠানের জন্য ৩ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রারম্ভিক তদন্তে মামলার ঘটনার সাথে ইমরান হোসেনের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। তাই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি।

আজ অনুষ্ঠিত শুনানির সময় আসামির পক্ষের আইনজীবীরা আবেদনের কঠোর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আবেদনটি গ্রহণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। দুই পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শোনার পর আদালত ইমরান হোসেনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারের বৃত্তান্ত অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভিযানের প্রেক্ষিতে ৩ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বছিলা বেড়িবাঁধ, বছিলা সেতু এবং বছিলা চেকপোস্টের কাছে আন্দোলনকারীদের ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিত হামলা চালান। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করা হয়, যাতে পায়ে গুলি লাগে মো. ছালেসান নামের এক ব্যক্তির। পরবর্তী সময়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। সেই মামলারই তদন্ত চলছে এবং এর সূত্র ধরেই ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে এবার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর হলো।