জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার মাঝগ্রাম মহল্লার জোছনা বেওয়া (৬০)-এর কথায় ফুটে উঠল চরম হতাশা। ন্যায্যমূল্যের বিশেষ ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় সোমবার সকাল আটটায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসেন তিনি। বিকেল সাড়ে তিনটা বেজে গেলেও কেনাকাটার সুযোগ হয়নি তাঁর। আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদে খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ন কেন্দ্রটিতে সপ্তাহের পাঁচ দিন (রবি থেকে বৃহস্পতিবার) ৪০০ জনকে প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রির কথা। প্রতিজন ২৭০ টাকার বিনিময়ে পাঁচ কেজি করে আটা ও চাল পান।
কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা দুইটি দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। কিন্তু একজন ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে, আঙুলের ছাপ ও অমোচনীয় কালি দিয়ে পরিচিতি নিশ্চিত করে পণ্য হস্তান্তরে ১০ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। এই শ্লথ গতির কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতে না পেরে ক্লান্ত হয়ে অনেকে লাইনের পাশে বসে পড়তে লক্ষ্য করা যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, বাজারের চেয়ে কম মূল্যে চাল ও আটা পাওয়ার সুবাদে প্রতিদিনই প্রচুর মানুষ ভিড় করছেন। কিন্তু ধীর বিক্রি প্রক্রিয়ার পরিণতিতে দিনমজুরদের কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে, আবার গৃহিণীদের সংসারের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। আক্কেলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মো. মাহবুব হোসেন জনবল সঙ্কটকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকারি নিয়মানুযায়ী দুটি বুথ পরিচালনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও লোকবলের ঘাটতির কারণে একটিমাত্র বুথ থেকেই পুরো বিক্রি সারতে হচ্ছে।
তিনি এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে ওএমএস কমিটির সভাপতি ও উপজেলার ইউএনও আশিক-উর রহমান জানিয়েছেন, খাদ্য নিয়ন্ত্রক চলতি মাস শেষ পর্যন্ত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ কার্যক্রম চলাতে পারবেন বলে অবহিত করেছেন। পরবর্তীতে ডিলার নিয়োগ দিয়ে কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এবং তখন বুথের সংখ্যা বাড়িয়ে তোলা হবে।



