চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি অত্যন্ত চালাকি পদ্ধতিতে সোনা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগ। মঙ্গলবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান মোহাম্মদ তুষার নামের এক যাত্রী। বিমানবন্দরে নামার পর তাঁর সন্দেহজনক আচরণ নজরদারিতে ধরা পড়লে গোয়েন্দারা তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশির সময় তাঁর অন্তর্বাসের ভেতর বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা পেস্ট ও পাউডার আকৃতির একটি পদার্থ উদ্ধার করা হয়। এই পদ্ধতিতে সোনাকে পাউডারে রূপান্তরিত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বলে ধারণা কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া পদার্থটির মোট ওজন প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি) বলে জানা গেছে। তবে এতে প্রকৃত সোনার পরিমাণ কত, তা নিশ্চিত করতে স্বর্ণকারের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফলাফল সম্পূর্ণ হলে চালানটির সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো চালান সোনা হলে এর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা হতে পারে। আটক যাত্রী মোহাম্মদ তুষারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার দীঘলগাঁও এলাকায়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পাউডার থেকে প্রকৃত সোনার পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। পরীক্ষা শেষে চালানটি বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সোনা পাচারের এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং জড়িত আরও কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ ধরনের পাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।