আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে রিজেন্ট হাসপাতালের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পল্লবী থানা-পুলিশের অনুরোধের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।

প্রতারণা ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলাও রয়েছে। সিআইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাহেদ মানুষ ঠকিয়ে ১১ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। রিজেন্ট হাসপাতালে পরীক্ষা না করেই ভুয়া সনদ দিয়ে তিনি ৩ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ২২৭ টাকা হাতিয়ে নেন। এই সব মামলায় তিনি পর্যায়ক্রমে জামিন লাভ করেছিলেন।

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তার মুক্তির আগে ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এক মামলায় তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। আরও আগে, ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় তার ছয় মাসের সাজা হয়েছিল। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে র্যাব অভিযান চালায়। ওই সময় হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাহেদ করিম। সেখান থেকে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে।

মামলার ৯ দিনের মাথায় ২০২০ সালের ১৫ জুলাই তাকে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র আইনের সেই মামলায় ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে ওই সাজার বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন এবং ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেয়। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টের সেই রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সাহেদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর মধ্যে তার প্রতারণার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত জটিল। তিনি শুধু ভুয়া করোনা সনদই তৈরি করতেন না, বরং থানা থেকে মামলা না নেওয়ার জন্যও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলার সবগুলোতেই তিনি পর্যায়ক্রমে জামিন পেলেও এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তাকে আবারও হেফাজতে নেওয়া হলো।