রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মূল ফটকের সামনের এলাকাটি সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সোমবার বিকেলে টানা বর্ষণের পর সেখানে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। নিচু অবস্থানের কারণে আশপাশের অন্যান্য এলাকার পানিও এসে জমে, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ কয়েক ঘণ্টা ধরে পানিতে ডুবে থাকায় রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে বা কাপড় গুটিয়ে পানি মাড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। কেউ কেউ পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।

এই সমস্যা নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুরোনো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতোমধ্যে কয়েক দফায় ওই সড়ক উঁচু করা হয়েছে, কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ বলেন, নিজস্ব নর্দমাগুলো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নিষ্কাশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। তাই সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পানিদৌর্বল্য দূর করা যাবে না। ড্রেনে ময়লা ও পলিথিন জমে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এলাকা আরও উঁচু করে তোলার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।

রোগী ও তাদের স্বজনেরা এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান চান। হাসপাতালে আসা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই চিত্র। বছরের পর বছর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। আরেকজন আবদুর রাজ্জাক জানান, পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাজশাহী আবহাওয়া কার্যালয় জানায়, সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নগরে ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

শুধু হাসপাতাল এলাকা নয়, নগরের লক্ষ্মীপুর, বাকির মোড়, ডিঙ্গাডোবা ও বহরমপুরসহ কয়েকটি নিচু এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট থাকায় সেগুলো থেকে ড্রেনে ময়লা ফেলা হয়, যা নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। তবে তাঁর দাবি, সাধারণত দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যায় এবং নগরের নিষ্কাশন পথগুলো সচল রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এখনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। মুখপাত্র জানান, রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।