হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে মিরাজ শেখ (৩০) নামে এক জেলেকে নিখোঁজের ঘটনাকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকা থেকে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল রাতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাকে আটক করে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

পরদিন তার পরিবারের সদস্যরা কোস্টগার্ড কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে প্রথমে বলা হয়, মিরাজ একটি 'অভিযানে' রয়েছেন এবং পরে বিকেলে আসতে বলা হয়। কিন্তু বিকেলে গেলে কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, তার কোনো অস্তিত্বই সেখানে নেই। মিরাজের মোটরসাইকেলটি চায়ের দোকান থেকে জব্দ করা হয় এবং ২১ এপ্রিল এক ব্যক্তি কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয় দিয়ে তা নিয়ে যায়, পরে সেটি ফেরত দেওয়া হয়।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে হাজারো মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বর্তমান ঘটনা প্রমাণ করে যে যথাযথ সংস্কার ছাড়া একই চর্চা অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান জানান।

মিরাজের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ১২ জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জেলেকে খুঁজে বের করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোস্টগার্ডের পশ্চিমাঞ্চলের জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন অবশ্য মিরাজকে আটকের ঘটনা বারবার অস্বীকার করেছেন।

মির্জার পরিবারের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা গুমের সময় ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। পরিবার একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েও কোনো ফল পায়নি।

আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে দিয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। নতুন প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা কেবল সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধান বা সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যা স্বাধীন তদন্তের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী আরও বলেন, পুলিশকে দিয়ে গুমের তদন্ত করালে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে না এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও গঠিত হবে না। তাই সরকারের উচিত প্রস্তাবিত আইন সংশোধন করে মানবাধিকার কমিশনকে গুম তদন্তের পূর্ণ কর্তৃত্ব ফিরিয়ে দেওয়া।