কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আর্থিক বিশ্লেষণের গতি বাড়ালেও মানুষের বিচারবুদ্ধির ওপরই চূড়ান্ত নির্ভরতা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান অর্থনীতি কর্মকর্তা (সিএফও) সারাহ ফ্রিয়ার। সম্প্রতি এক লেখায় তিনি জানান, তাদের দলের কাজের ধরন বদলে দিয়েছে চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক—যার ফলে অতীতের হিসাব মেলানোর চেয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বেশি সময় দিতে পারছে তারা। তবে এআই কখনোই আর্থিক কঠোরতা বা মানুষের বিচারবুদ্ধিকে প্রতিস্থাপন করবে না—বরং সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে, সঠিক প্রশ্ন তুলতে এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।
সোমবার ফ্রিয়ার তার লিংকডইন পোস্টে এই ধারণা প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, অন্যান্য কোম্পানিকে এআই ব্যবহারে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করার সময় নিজেরাই উদাহরণ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। পোস্টটিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে; কমপক্ষে সাতটি মন্তব্যে মানুষের জবাবদিহিতা ও বিচারবুদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একজন মন্তব্যকারী বলেছেন, বিশ্লেষণ স্বয়ংক্রিয় করা এবং বিচারবুদ্ধি আউটসোর্স করার মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরেকজন এটিকে শিল্পের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন—এআই ফাইন্যান্সকে ক্লোজিংয়ের সময় বেদনাদায়ক ব্যস্ততা থেকে বোর্ডের কৌশলগত অংশীদার করে তুলছে।
ফ্রিয়ার ওপেনএআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আরেকটি প্রবন্ধে এআই-ভিত্তিক ফাইন্যান্স ফাংশন গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দুই বছর আগে যোগ দেওয়ার সময় ছোট একটি দল ছিল, কিন্তু কোম্পানির অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধির কারণে নতুন করে পুরো কাঠামো তৈরি করতে হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল দুইটি—শূন্য দিনে অ্যাকাউন্ট ক্লোজিং এবং প্রতিনিয়ত হালনাগাদ হওয়া পূর্বাভাস। ফ্রিয়ারের মতে, এআই-চালিত ফাইন্যান্স দলের প্রকৃত সাফল্য হলো ঘটনা ঘটার সময়ই বুঝতে পারা, নেতাদের সামনে থাকা পছন্দগুলো দেখাতে পারা এবং ফলাফল বদলানোর সুযোগ থাকতে থাকতেই ব্যবসাকে কাজ করার সময় দেওয়া।
সিএফওদের জন্য তিনি পাঁচটি শিক্ষার কথা বলেছেন: সবার জন্য এআই অ্যাক্সেস চালু করে ব্যবহারের কারণ তৈরি করা; কাজের ধারা নতুন করে ডিজাইন করা, যেখানে সিদ্ধান্তই কেন্দ্রে থাকবে; ফাইন্যান্স পেশাদারদের নির্মাতা হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া; গতির সঙ্গে জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্ত করা; এবং প্রতি ইউনিট ইন্টেলিজেন্সে মূল্য পরিমাপ করা। তিনি উল্লেখ করেন, ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইন্যান্স পেশাদারদের বিশেষায়িত এআই ব্যবহারের ৪০ শতাংশই ঐতিহ্যবাহী ফাইন্যান্সের বাইরে, আর ২২ শতাংশ প্রকৌশল-সংক্রান্ত কাজে।
ফ্রিয়ার বলেন, কৌশল, মূলধন, তথ্য, ঝুঁকি ও পারফরম্যান্সের কেন্দ্রে থাকে ফাইন্যান্স, যা সিএফওদের কোম্পানির কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অনন্য ধারণা দেয় এবং এআই রূপান্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। সিএফওদের জন্য মূল শিক্ষা হলো—কোনো নির্দিষ্ট এআই টুল গ্রহণ নয়, বরং এআই ফিরিয়ে দেওয়া সময় দিয়ে ফাইন্যান্সের ভূমিকাকে নতুন করে ভাবা।




