মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ এখন সুদ পরিশোধে প্রতিদিন গড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু অক্টোবর ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৯৬৩ বিলিয়ন ডলার নিট সুদ পরিশোধ করেছে ট্রেজারি বিভাগ। এই সময়কালে ৩০৩ দিনে দৈনিক গড় সুদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.১৮ বিলিয়ন ডলার।

সিবিও জানিয়েছে, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সুদ পরিশোধ ১১৭ বিলিয়ন ডলার বা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফিল সুয়াগেলের মতে, স্বল্পমেয়াদি সুদের হার কমে যাওয়ায় সামগ্রিক সুদ ব্যয়ের বৃদ্ধি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার বেশি। এই পরিস্থিতিতে সিবিও পুরো অর্থবছরের ঘাটতির পূর্বাভাস ২.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত পূর্বাভাসের চেয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মার্কিন ঋণের মূল্য নিয়ে উদ্বেগের প্রয়োজন নেই, কারণ এটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ শ্রেণির ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু ঋণ-সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশকারীদের মতে, দেশটির ঋণ-থেকে-জিডিপি অনুপাত ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে, যা বর্তমানে ১২২ শতাংশ। এই অবস্থায় ঋণদাতারা কোনো এক সময়ে ঋণ দিতে উচ্চতর ঝুঁকি প্রিমিয়াম ধার্য করতে পারে, যার ফলে সুদের হার আরও বেড়ে যেতে পারে।

ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা রে ডালিও সতর্ক করে বলেছেন, সুদ পরিশোধের চাপে সরকারি ব্যয় সংকুচিত হলে 'ঋণ-প্ররোচিত হার্ট অ্যাটাক' হতে পারে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ।

সিবিওর এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই গত সপ্তাহে জাপানি ইয়েনের পতন ঠেকাতে মার্কিন ট্রেজারি ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, এই পদক্ষেপ ছিল আঞ্চলিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে। তিনি বলেন, 'স্থিতিশীল ইয়েন শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

জুলাইয়ের শেষে এক ক্যাবিনেট বৈঠকে বেসেন্টের করণীয় তালিকায় ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইয়েন কেনার বিষয়টি ছিল। জাপান মার্কিন ঋণের শীর্ষ ধারক হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মে ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জাপানের হাতে ১.১৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটি রয়েছে, যা গত এক বছর ধরে ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করছে।

মার্কিন হস্তক্ষেপের পর ইয়েনের দর ডলারের বিপরীতে ১৫৫-এ উন্নীত হয়েছিল, কিন্তু পরে তা আবার ১৫৯-এ নেমে আসে। ইউবিএসের পল ডোনোভান মনে করেন, নীতিগত কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এবং মুদ্রার দরপতনকে স্পেকুলেটিভ আক্রমণের ফল হিসেবে না দেখায় বাজারের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াই এটি।