মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানকে জানিয়েছেন যে বন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তাঁর যথাযথ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হবে। রোববার আসিয়ানের বিশেষ দূতের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চিকে ‘বোন’ বলে উল্লেখ করে বলেন, মিয়ানমার সরকার তাঁর দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে।
এর আগে একই দিনে ১১ সদস্যের আসিয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনাসামনি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি প্রথম এমন সরাসরি সাক্ষাৎ। দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় থাকা শান্তি উদ্যোগে গতি ফেরানোর জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারিও, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেতে চেষ্টা করছেন, তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে আমার মনে হচ্ছে সু চি সুস্থ আছেন। তিনি আরও বলেছেন, “তিনি আমাদের আত্মীয়, তিনি আমাদের বোন, তাই তাঁর দেখভালের দায়িত্ব আমাদেরই।”’
লাজারিও আরও জানান, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সু চি সুস্থ আছেন—এই দাবি যাচাই করার জন্য সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া জরুরি।
সু চি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে বন্দী রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা একাধিক ফৌজদারি মামলায় তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা সম্প্রতি জান্তা সরকার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এনেছে। তবে সু চির সহযোগীরা দাবি করে আসছেন যে এ মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো এবং তাঁরা তাঁদের নেত্রীর নির্দোষ বলে বিশ্বাস করেন। সু চি নিজেও কোনো অপরাধ স্বীকার করেননি। জান্তা সরকার এখন পর্যন্ত সু চির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়, যেখানে এখন পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সশস্ত্র সংঘাতের কারণে দেশটিতে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আসিয়ান শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাঁচ দফার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে আসিয়ানের বিভিন্ন বৈঠকে মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বকে আর আমন্ত্রণ জানানো হয় না এবং পরিকল্পনাটি থমকে রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই বৈঠকটিকে আসিয়ানের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও তা এখন পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ থামাতে পারেনি। আসিয়ান সদস্য দেশগুলো আশা করছে যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি সম্ভব হবে। এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার কিছু আপস করতে বাধ্য হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ খুলে দিতে পারে।



