মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ায় ব্যবসায়িক জগতে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহান্তে এই সংঘাত তীব্রতর হওয়ার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। শীর্ষ নির্বাহীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নজর রাখার মতো।
প্রথমত, জ্বালানি মূল্য পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা মূলত চীন ও অন্যান্য এশীয় দেশের কারণে কমে গেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার বেড়েছে। দেশটিতে পাম্পের দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালিতে কিছু শিপিং রুট খোলা থাকলেও বর্তমানে সেগুলো ব্যবহারের সম্ভাবনা কম। বিশ্বের প্রায় ১ বিলিয়ন ব্যারেল পেট্রোলিয়াম মজুদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তিচুক্তি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হতে পারে এবং তা ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ভোক্তা ও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। মার্কিন নাগরিকরা পাম্পে যা মূল্য দেন, সেটিকেই তারা সামগ্রিক জ্বালানি মূল্য বলে ভুল করেন—যার মধ্যে বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিও পড়ে। জ্বালানি মূল্যের প্রভাব জনমনে অন্য উপায়েও প্রতিফলিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা সেন্টারের উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে মার্কিন ভোক্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে অপছন্দ করেন। তারা দেখতে চান যে তাদের দুর্ভোগের মাঝে কারা লাভবান হচ্ছে। এনার্জি অ্যান্ড পলিসি ইনস্টিটিউটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১টি বিদ্যুৎ ও গ্যাস ইউটিলিটি কোম্পানি তাদের প্রধান নির্বাহীদের মোট ৬২৬ মিলিয়ন ডলার বেতন দিয়েছে—যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বেশি। নির্বাচনের বছর হওয়ায় এই বাস্তবতা নীতি বিতর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
তৃতীয়ত, মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা সহজ নয়। মার্কিন-ইসরায়েলের ইরান হামলা এমন এক সময়ে এল যখন ব্যবসায়িক নেতারা ইতিমধ্যেই শুল্ক ও প্রতিশোধমূলক বাণিজ্য নীতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল ও নীতি সমন্বয় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এটি মূল্য উচ্চ রাখার ক্ষেত্রে আরেকটি নতুন উপাদান। ফেডারেল রিজার্ভ এই প্রবণতায় সন্তুষ্ট নয়। কোম্পানিগুলো মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং আশা করছে গ্রাহকরা কিনতে থাকবেন। পশ্চিম উপকূলে দাম কমলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ফলে সিইওদের খরচ কমানোর ওপর আরও চাপ বাড়ছে—বিশেষ করে শ্রমের মতো খাতে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ চাকরিতে মানুষের বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা এখনও খুব ব্যয়বহুল।
চতুর্থত, নিরাপত্তা সতর্কতা জরুরি হয়ে পড়েছে। ইরান কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপরই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে না; ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ও অন্যান্য ইরান-সম্পর্কিত হুমকি সৃষ্টিকারী সংস্থাগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোকে—বিশেষ করে প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে—লক্ষ্য করছে। শীর্ষ নির্বাহীদের এখন সরকারের সর্বশেষ হুমকি সম্পর্কিত সতর্কবার্তা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে এবং কর্মীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ আপডেট রাখতে হবে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ অঞ্চল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় ভ্রমণ পরামর্শও শিথিল করা হয়েছে। তাই নেতাদের ভয়ের কারণে ভ্রমণে অতিরিক্ত সতর্কতা না দেখিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।


