কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচনের পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। এ অবস্থায় শাসক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স এবার দিল্লিতে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ রোববার জম্মুর মহারাজা হরি সিং পার্কের জনসভায় এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনটি বেছে নিয়ে তিনি দলবলসহ দিল্লিতে ধরনা দেবেন। সেসময় সেখানে বিশাল ব্যানারে 'দিল্লি চলো' ও 'আমাদের রাজ্য ফেরত চাই' স্লোগান দেখা গেছে।

ওমর আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার। সংসদ ও সুপ্রিম কোর্টেও সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, দাবি আদায়ের জন্য কি তাঁদের এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারস্থ হতে হবে? বিজেপি কি বলবে, দিল্লি না গিয়ে হোয়াইট হাউসের সামনে ধরনা দিতে হবে? তাঁর মতে, কেন্দ্রকে তাঁরা যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। নানা উপায়ে কথা বলেছেন। আর নয়—এবার কৌশল বদলানোর পালা।

এই দাবি কেবল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নয়, এটি সবার, এমনকি বিজেপিরও দাবি বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি নেতারাও এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়েছিলেন। তবে যা দেওয়ার তা আর দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ তাঁর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সরকারকে ভেঙে দিতে বিজেপি চক্রান্ত করছে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতাদের ভাঙিয়ে নিতে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার টোপ দেওয়া হচ্ছে। একজন বিধায়ককে ৩০ কোটি টাকা ও মন্ত্রী পদের প্রলোভন দেখানো হয়েছে বলে তিনি শনিবার জানান। ওই প্রস্তাবদাতা একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বলে উল্লেখ করেন ওমর। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ১০০ কোটি টাকা দিলেও তাঁর দলের কেউ দলত্যাগ করবে না।

জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, ৯০ আসনের মধ্যে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ৪২টি, কংগ্রেসের ৬টি এবং সিপিএমের একটি আসন রয়েছে। বিজেপি ২৯ আসন পেলেও ক্ষমতায় নেই। মেহবুবা মুফতির পিডিপি পেয়েছে মাত্র ৩টি আসন। ওমর আবদুল্লাহ ৪৯ আসনের জোট নিয়ে সরকার গঠন করেন। তিনি মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গে সাফল্যের পর বিজেপি এখন জম্মু-কাশ্মীরে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজ্যের দাবিকে সামনে রেখে দলকে একত্রিত করাই ওমরের লক্ষ্য। অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী নেতা বিজেপির সুনীল শর্মা অভিযোগ করেছেন, নিজের সরকার পরিচালনায় ব্যর্থতা ঢাকতেই মুখ্যমন্ত্রী এই পথ বেছে নিচ্ছেন।