শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সামরিক আইনের আওতায় জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় অবস্থিত শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য দেন। ওই অনুষ্ঠানের আগে বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তার অন্যান্য সহযোগীদের ইতোপূর্বে সামরিক আদালতে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। সেসব বিচারে কিছু পর্যবেক্ষণ রেকর্ড করা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘকাল ধরে ভিন্ন পরিচয়ে একটি প্রতিবেশী দেশে আত্মগোপন করে ছিলেন মোজাফফর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিচার জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হবে বলেও স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
একই রায়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় যেসব আসামি ইতিমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সেটি জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি। তার বিরুদ্ধে দেওয়ানি আইনে কোনো মামলা দায়ের করা হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল আইনে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসংগত হবে, সেটি পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যাবে। বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুই ভিন্ন আইনে দুইবার বিচার করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৪৫ বছর পলাতক ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন (৭৭)। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।




