গুরুতর আহত হয়েও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক যোদ্ধা সরকারি ভাতার শ্রেণিবিন্যাসের কারণে মাসে পাঁচ হাজার টাকা কম পাচ্ছেন। পা হারানো মো. সফিকুল ইসলাম বর্তমানে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত হিসাবে ১৫ হাজার টাকা পান, অথচ অঙ্গহানির কারণে ‘ক’ শ্রেণির আওতায় ২০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় গাজীপুরের সফিপুরে গুলিবিদ্ধ হন সফিকুল। পেশায় পিকআপ চালক তিনি। রংপুর থেকে মুরগি এনে পুরান ঢাকায় সরবরাহ করে ফেরার পথে খাবার খেয়ে দাঁড়াতেই গুলির আঘাত পান। রক্তাক্ত অবস্থায় দেড় ঘণ্টার মতো রাস্তায় পড়ে থাকার পর এক অটোরিকশাচালক তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে নিটোর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে শুরুতে অবহেলার শিকার হন তিনি। সরকার পতনের পরে তার চিকিৎসার গতি বাড়ে। হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার হয়; প্রায় দুই মাস হাসপাতালে কাটান।

বাড়ি ফেরার পর পায়ে সংক্রমণ দেখা দেয়। বারবার সংক্রমণের কারণে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা। সফিকুল জানান, বাবা-মা মারা যাওয়ায় আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্ত্রী রেশমা বেগম ও দুই কন্যা—বড় মেয়ে সুস্মিতা ইসলাম অনার্স প্রথম বর্ষে এবং ছোট মেয়ে মারিয়াম সুলতানা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

পা কেটে বাদ দেওয়ার আগে তালিকাভুক্ত হওয়ায় ‘অতি গুরুতর আহত’ (ক শ্রেণি) হতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে আবেদন করবেন বলে জানান। এদিকে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকেও কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি তার। পাঁচবার ফাউন্ডেশনে গেলেও টাকা না পেয়ে ফিরেছেন। ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কামাল আকবর জানান, তহবিল সংকটের কারণে সবাইকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফাউন্ডেশনের ৩৮৩ কোটি টাকার মধ্যে সরকার ১০০ কোটি দিয়েছে; এখনও ২৬৩ কোটি টাকা প্রয়োজন, যা শিগগিরই দেওয়া হবে বলে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সফিকুল জানান, ব্র্যাক তাকে একটি কৃত্রিম পা দিয়েছে, যা দূরের পথে ব্যবহার করেন। তবে সাধারণত ক্রাচেই চলাচল করেন। একটি বেসরকারি সংস্থার দেওয়া অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা পান। বগুড়া জেলায় তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জুলাই আন্দোলনে পা হারিয়েছেন।