জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোচিত মুখ মো. নাসির খানকে সচিবালয়ে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদন ‘জুলাইয়ের এই মুখগুলো এখন কোথায়’ প্রকাশের পরের দিন সোমবার দুপুরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারীর মাধ্যমে নাসির খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিন দুপুর পৌনে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন নাসির। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে নাসির খান জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে ১০ মিনিট সময় দেন।

সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নাসিরের হাতে থাকা লোহার পাইপ ও লাঠির কথা তুলে ধরেন। নাসির জানান, তিনি জবাব দেন যে সেগুলো আন্দোলনের সময় ফেলে এসেছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর শারীরিক অবস্থা ও আন্দোলনের সময়কার সাহসিকতার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে নাসির খান বলেন, তিনি জুলাই যোদ্ধা হিসেবে কোনো কার্ড করেননি এবং আন্দোলনের কৃতিত্ব নিতে কিছুই করেননি।

নতুন বাংলাদেশ গঠনে নিজের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে নাসির খান প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ চান যেখানে স্বাধীনভাবে কথা বলার ও সমালোচনা করার অধিকার থাকবে। ‘ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলতে পারার’ ওপর জোর দেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করে বলেন, অল্প সময়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং সরকারকে আরও সময় দেওয়া দরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং তরুণদের সঙ্গ চান। নাসির খান প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করেন এবং নিজের জন্য দোয়া চান।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় পুলিশের মুখে টিনের ঢাল হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা নাসিরের ছবি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকী ছবি হিসেবে পরিচিতি পায়। স্যানিটারি মিস্ত্রি নাসির খানের সেই ছবি দেশজুড়ে আলোচিত হয় এবং অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতীক হয়ে ওঠে।