দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাসানী জনশক্তি পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ কয়েকটি দলের নেতারা। মির্জা ফখরুল জানান, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সময় কারাবরণ, মামলা ও আত্মত্যাগের স্মৃতি নিয়ে বৈঠকের পরিবেশ ছিল আবেগঘন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে জানান, সরকার গঠনের পর অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজে ব্যস্ত থাকায় সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে কৃষিঋণ, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় নেতাদের ভাতা, খেলোয়াড়দের ভাতা ও খাল পুনঃখননের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন যে একটি 'ধ্বংসস্তূপ' থেকে সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে; ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও বছরব্যাপী আন্দোলনের দলগুলোর স্বাক্ষরিত 'জুলাই সনদ' অক্ষরে অক্ষরে পালনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জুলাই আন্দোলনে নিহত, আহত ও দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানান, বর্তমান আইনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ নেই; বিষয়টি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




