চার বছর আগে ক্রিসমাসের আগে জুম কলে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে ব্যাপক আলোচনায় আসা বেটার ডট কমের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশাল গর্গ এখন নিজের হারানো পদ ফিরে পাওয়ার জন্য পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। গত ৩ আগস্ট তাকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, আর তার এক সপ্তাহ আগেই ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ড্যানিয়েল লুইস কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে তিনি গর্গের স্থলাভিষিক্ত হন।

গর্গের অভিযোগ, ড্যানিয়েল লুইস কয়েক মাস ধরে তাকে এবং পরিচালনা পর্ষদকে বিভ্রান্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, লুইস প্রথমে কোম্পানির কৌশল ও খরচ কমানোর পরিকল্পনার প্রশংসা করে পর্ষদে জায়গা করে নেন, কিন্তু তার নিজের সিইও হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা কাউকে জানাননি। এই বিভ্রান্তির কারণেই তিনি পদচ্যুত হয়েছেন বলে মনে করছেন গর্গ।

মহামারির সময় কম সুদহারের কারণে বেটার ডট কমের ব্যবসা দ্রুত বেড়েছিল এবং কোম্পানিটির মূল্যায়ন ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তীতে সুদহার বেড়ে যাওয়ায় রিফাইন্যান্সিং ব্যবসায় ধস নামে। ২০২১ সালে কোম্পানিটির বার্ষিক বিক্রি ছিল ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালে নেমে আসে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলারে। বিশাল গর্গ দাবি করছেন, এখন পরিস্থিতি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং চলতি বছর কোম্পানির বিক্রি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মর্টগেজ প্রক্রিয়াকরণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

পুরোনো বিতর্কও গর্গকে পিছু ছাড়ছে না। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় তাকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল এবং পরে তিনি ছুটিতে যান। একটি হুইসেলব্লোয়ার মামলাও করা হয়েছিল, তবে তা পরে বাদ পড়ে এবং তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালে এসপিএসি একীভূতকরণের পর বেটারের শেয়ারদর প্রায় ৯৩ শতাংশ কমে যায়। গর্গ স্বীকার করেছেন, ওই ছাঁটাই তার এবং কোম্পানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে তিনি বলেছেন, কোম্পানির ওপর তিনি যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করছেন না—এমনটাই তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন লুইস।

নিজের পদ ফিরে পেতে আইনি লড়াই শুরু করেছেন গর্গ। তিনি জানান, তার নিজের এবং কয়েকজন প্রাথমিক বিনিয়োগকারীর বিশেষ ভোটাধিকারসম্পন্ন ক্লাস বি শেয়ারের মাধ্যমে তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছেন। তিনি আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরোকে নিয়োগ করেছেন এবং ১৩ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাকে আবার সিইও করার দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। গর্গ আরও জানিয়েছেন, কোম্পানি লাভজনক না হওয়া পর্যন্ত তিনি বছরে মাত্র ১ ডলার বেতনেও কাজ করতে প্রস্তুত এবং পরে কোম্পানি স্থিতিশীল হলে তিনি সিইও পদ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।