যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জন হিলির সঙ্গে গত সপ্তাহে এক টেলিফোন আলাপে ব্যাংকগুলোর ওপর কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার অক্টোবরে বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারই মধ্যে এই সতর্কবার্তা এলো। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ওই আলোচনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, কর বৃদ্ধি প্রায়শই কর্মসংস্থান হ্রাস করে বলে মন্তব্য করেছেন ডিমন। নিউ ইয়র্ক সিটির করের বোঝাকে আংশিকভাবে দায়ী করে সেখানকার অর্থ খাতের চাকরি কমে যাওয়ার উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন।

অর্থ খাতে শক্তিশালী মুনাফা এবং সংগঠিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর তরফ থেকে ঋণদাতাদের ওপর কর বাড়ানোর দাবি ওঠায় বার্নহ্যাম প্রশাসন বাজেটে ব্যাংক কর বৃদ্ধির সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক কর সারচার্জ নিয়ে সমালোচনা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডিমন। তার মতে, এই কর বাড়ানো হলে মূলধন দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

জুলাই ১৬ তারিখে উইলফ্রেড ফ্রস্টের সঙ্গে মাস্টার ইনভেস্টর পডকাস্টে আলাপকালে ডিমন বলেন, “যদি আপনার কর ব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক না হয়, তাহলে মূলধন আপনার দেশ ছেড়ে চলে যায়।” এই কথার মাধ্যমে তিনি কর নীতির প্রভাব সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

ডিমনের এই সতর্কবার্তা যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এলো, যেখানে সরকার রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে অন্যদিকে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতামূলকতা ধরে রাখার চাপও রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের লাভজনকতা যখন শীর্ষে, তখন কর বাড়ানোর আহ্বান আরও জোরালো হচ্ছে। তবে ডিমনের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে অতিরিক্ত কর আরোপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার এখন ব্যাংকিং খাতের কর কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অক্টোবরের বাজেটে। তার আগে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সতর্কবার্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জেপি মরগানের মতো বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর এই মন্তব্য দেশটির আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।