কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জাহিদুল আলম ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে নয়টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে জাহিদুল আলমের ওপর চাপাতি নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হত্যার পরপরই স্থানীয় লোকজন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলালকে (২৪) আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মোকাররম হোসেনের নাম উল্লেখ করেন। এরপর থেকেই মোকাররম আত্মগোপনে রয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম বলেন, জনতার হাতে আটক হেলালের জবানবন্দিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেনের নাম এসেছে। পাশাপাশি পুলিশের হাতে আটক তিন আসামি মোকাররমের স্বজনদের বাড়িতে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ ওঠার পরও তিনি সংগঠনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি এবং আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তার আগে রোববার কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মোকাররম হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মোকাররম হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার রাতেই পুলিশ মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলমকে (২৭) গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ভাড়াটে তিন খুনি এসেছিল। পরে শনিবার নিহত জাহিদুলের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মোকাররম হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।




