উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. মামুন হোসেনকে তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রোববার দিবাগত রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন কক্ষ থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তার কাছ থেকে পাসপোর্ট ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তাকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মতিউর রহমান মোল্লা। তবে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামুনের মুঠোফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা জরুরি। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তার যোগাযোগ, সম্ভাব্য সহযোগী, অর্থের উৎস ও বিদেশ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মামুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি শ্রমিক ভিসায় কাতার যাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন এবং বিদেশ যেতে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে বিদেশ যাওয়ার সময় তাকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে ২০ দিন গুম করে রাখা হয়েছিল এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জোর করে জবানবন্দি নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আদালতকে জানান, ২০২০ সালে পর্তুগাল হয়ে ফ্রান্স যান মামুন। সেখানে উগ্রবাদী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বছরই তাকে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার করে ২০২৪ সালে আরেক সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তিনি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী এলাকায় মার্শাল আর্টের আড়ালে পরিচালিত ফাতাহ কমব্যাটের সদস্যদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এসব তথ্য রিমান্ড আবেদনে না থাকায় ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবী শরীফ ওয়াহিদ বখতিয়ার ও মফিজুল ইসলাম তাদের মক্কেলকে নির্দোষ দাবি করে মামলাটি হয়রানিমূলক বলে অভিহিত করেন। আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তিন দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেন। মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মামুনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও গেন্ডারিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে যা বর্তমানে বিচারাধীন।