তিন মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মিশকাত হোসেনের বাবা আবদুল জব্বার। তিনি একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পড়ে যায় ১৫ বছর বয়সী মিশকাতের ওপর। সে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ইজিবাইক চালিয়ে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করত সে। সেই টাকাতেই চলত তার ও মা মিনারা খাতুনের সংসার। তবে গত শনিবার রাতে সে যখন ইজিবাইক নিয়ে বের হয়, তখন একদল যাত্রী তাকে থামায়। তারা মিশকাতকে একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এরপর ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুই পথচারী কিশোরটিকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেন। ঘটনার পর থেকে মা ও ছেলে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। মিনারা খাতুন জানান, ইজিবাইকটি কেনার ঋণ এখনো শোধ হয়নি। এর আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, কীভাবে ঋণ শোধ করবেন—কিছুই বুঝতে পারছেন না তিনি। স্থানীয় কুশনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহারুজ্জামান সবুজ জানান, তিনি ঘটনার খবর পাননি। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। প্রতিবেশী আকিমুল ইসলাম বলেন, ছেলেটি পড়ালেখার পাশাপাশি সংসার বাঁচিয়ে রেখেছিল। এখন তার কান্না দেখে কেউ সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কিছু করতে পারছে না। মিশকাতের নিজেদের কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। তিন শতাংশ জমির ওপর টিনের ঘরে মা-ছেলে থাকেন। বড় বোন রিয়া খাতুনের বিয়ের পর মিশকাত একাই মাকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছিল। এখন ইজিবাইক হারিয়ে সে দিশাহারা।