সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিমুল ইসলামের হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর একটি স্থিরচিত্র ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে একে আইন লঙ্ঘন এবং দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির পক্ষে অশোভনীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সাথেই এই ছবি যুক্ত ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ সরেজমিনে উপাচার্য পরিদর্শন করেছেন। সেই পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি মোটরসাইকেল চালানোর সময় এই ছবি তোলা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রবেশপথে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য ওয়াকিটকির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার জন্য আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানোর অল্প সময়ের মধ্যেই উপাচার্যের হেলমেটহীন চালনার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, একজন উপাচার্যের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষে এই আচরণ মোটেই কাম্য নয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ছবি প্রকাশ করে আইন অমান করাকেই যেন উৎসাহিত করল, বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
ঘটনার ব্যাখ্যায় উপাচার্য আলিমুল ইসলাম জানান, তার এক সহকর্মী সম্প্রতি একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনেছেন। সেই বাইকটি পরীক্ষা করার জন্য তিনি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তায় মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরত্বে চালিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এটি ছিল নিছক পরীক্ষামূলক চালনা, কোনো নিয়মিত চালনা নয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ মে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারের হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। তখন তিনি দাবি করেন, ভিডিও ধারণের উদ্দেশ্যে তিনি মাত্র এক মিনিটের কম সময়ের জন্য হেলমেট খুলেছিলেন। তিনি বলেন, সাধারণত তিনি সব সময় হেলমেট পরেই বাইক চালান।
তবে এসব বক্তব্য সত্ত্বেও নেটিজেনদের অনেকে মনে করছেন, নিরাপত্তা সচেতনতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনা আবারও রাস্তায় হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব এবং আইনের চোখে সবাই সমান এই বার্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।




