বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশালে মানবাধিকারকর্মী নাদিমা মোহাম্মদী খানের ওপর সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে নারী নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রতি আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে নাদিমা মোহাম্মদী খান তাঁর চাচাতো বোনকে নিয়ে বরিশালের নিজ বাসভবনে ফিরলে একটি সংঘটিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, ওই বাসভবনের আশেপাশে কিছু যুবক দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির ভেতরে আবর্জনা ফেলা, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। নাদিমা ও তাঁর চাচাতো বোন এ নিয়ে তাদের প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। পরবর্তীকালে প্রায় ২৫-৩০ জন মিলে সংঘবদ্ধ হয়ে মানবাধিকারকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিবৃতিতে বলে, নিজ বাসভবনে একজন নারী ও মানবাধিকারকর্মীকে দলবদ্ধভাবে হামলা চালানোর এই ঘটনা দেশে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটির মতে, শুধু মানবাধিকারকর্মী নন, সাধারণ প্রতিটি নারীর জন্যই নিজ বাড়িতে নিরাপদে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে। মহিলা পরিষদ এই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সেইসাথে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। মহিলা পরিষদের এই বিবৃতির মাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।