সুনামগঞ্জে ফের বেড়েছে পানির উচ্চতা। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, ছাতক উপজেলায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। একইভাবে দিরাই উপজেলার মারকুলি এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পানিও বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে। গত দুই দিন ধরে জেলাজুড়ে ভারী বৃষ্টি চলছে, সঙ্গে নেমেছে উজানের পাহাড়ি ঢল। ফলে নদী ও হাওরগুলোয় পানি বাড়তে শুরু করেছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টি হবে। এতে পানি আরও বাড়বে। কোনো কোনো এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।’ তবে আপাতত বড় বন্যার আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর এলাকায় সোমবার বেলা তিনটায় পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৫৩ মিটার। সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ২২ সেন্টিমিটার। রোববার সকাল নয়টা থেকে সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১১০ মিলিমিটার। জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছিল ৭ জুলাই, ২৬৫ মিলিমিটার।

পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও চানপুর এলাকায় ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে ব্যাপক ঢল নেমেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, গত রাতে প্রচণ্ড ঢলে কিছু বাড়িঘর ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুল মোতালেব জানান, খাসিয়ামারা, মৌলা ও চেলাই নদীতে ঢল নামায় পানি বেড়েছে। নিচু এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার ছাড়াও জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর ও কুশিয়ারা নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি মাসের শুরু থেকে টানা এক সপ্তাহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। মাঝখানে এক সপ্তাহ বৃষ্টি কম থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। তবে ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আবারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে এবং হাওরে পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উপজেলা পর্যায়ে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বন্যা মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও ১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও জিআর চাল পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।