রাজধানীর বনানী এলাকায় অবস্থিত এনজে ডায়মন্ডস নামের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিসূত্রে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত দুই নারী প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান হীরা ও স্বর্ণের অলংকার সরিয়ে ফেলে এবং তার জায়গায় নকল অলংকার (রেপ্লিকা) রেখে আসেন বলে পুলিশের অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ওই দুই নারী দীর্ঘদিন ধরে এই চুরি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

মামলার বাদী মো. খায়েজ আহাম্মদ ৮ জুলাই বনানী থানায় এটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তরা প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে আসল গয়না সরিয়ে ফেলতেন এবং অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক সহযোগীর সহায়তায় সেগুলোর বদলে নকল গয়না রেখে দিতেন। পাশাপাশি কয়েকটি হীরার অলংকার সরাসরি চুরি করার কথাও অভিযোগে স্থান পেয়েছে। চুরি হওয়া অলংকারের তালিকায় হীরা ও স্বর্ণের সমন্বয়ে তৈরি চারটি নেকলেস রয়েছে, যেগুলোর ওজন যথাক্রমে ২৬ দশমিক ১১ গ্রাম, ৫০ দশমিক ৪১ গ্রাম, ১৯ দশমিক ৮৪ গ্রাম এবং ৩১ দশমিক ৪৩ গ্রাম।

ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী হলেন মুনমুন আচার্য ওরফে প্রিয়া (৩০) ও মোসাম্মৎ রিফা তামান্না (২৩)। এদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে চুরির এই ঘটনা ঘটানোর জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. ইয়াসির আরাফাত তাদের আদালতে হাজির করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ সোমবার এ আবেদনের শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার প্রসিকিউশনের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরি হওয়া অলংকারগুলোর বাজারমূল্য বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে মামলার নথিতে ঠিক কত টাকার অলংকার চুরি হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরির পরিমাণ ও অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালাবে বলে জানা গেছে।