খুলনা নগরের হরিণটানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ নিজেদের বাড়ির উঠানে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি কারও নজরে এলেও সম্প্রতি দম্পতির মধ্যে বিরোধের জেরে স্ত্রী থানায় গিয়ে ঘটনা ফাঁস করে দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার দুপুরে ওই বাড়ির উঠান খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ইজিবাইকের নম্বর প্লেট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার সূত্র ধরে খুলনা সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে নিবন্ধিত মালিক মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি ইজিবাইকটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত ব্যক্তির নাম মারুফ হতে পারে, তবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার বিবরণে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির একটি পা ছিল না। ওই বাড়িতে ইজিবাইক নিয়ে গেলে একপর্যায়ে তাকে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির সামনের উঠোনে পুঁতে রাখে। হত্যার পর ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে ফেলে আলাদাভাবে বিক্রি করে দিয়েছে স্বামী। বাড়িটি বেশ নির্জন এলাকায় হওয়ায় এই ঘটনা কারও চোখে পড়েনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই নারী যৌনপেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কয়েক মাস আগে বর্তমান স্বামীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও স্বামীর সহায়তায় তিনি আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন। নিহত ব্যক্তিকেও ওই নারী বাড়িতে ডেকে আনেন বলে ধারণা পুলিশের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাটি অনেকটাই ফাঁকা ও নির্জন। ওই দম্পতির সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া শুনতে পেতেন তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘ওই পরিবারের কারও সঙ্গে আমাদের মিশতে দেখা যায়নি। প্রায় সময়ই কলহ লেগে থাকত।’
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে ইজিবাইকের নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে মালিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহত ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্তে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরাও কাজ করছেন।



