রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানা এলাকার পদ্মা গার্ডেনে গত ৪ এপ্রিল এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে পুলিশ। এই মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ওরফে শান্ত ও তার সহোদর মো. শুভর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে।
ওই দিন সন্ধ্যায় বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তার বন্ধুকে নিয়ে পদ্মা গার্ডেনে আয়োজিত সাহিত্য উৎসবে যান। সেখানে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের টিকিট নিয়ে প্রশ্ন করলে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে ওই তরুণীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অশোভন অঙ্গভঙ্গি করে ধর্ষণের ভয় দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাদী ও তার বন্ধুকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
তদন্ত শেষে বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক নুরন্নবী হোসেন গত শনিবার আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং শুভর বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ভয়ভীতি প্রদর্শনের ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনের বিরুদ্ধে প্রমাণের অভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মনিরুজ্জামান বর্তমানে পলাতক। তাকে ধরতে আদালতে সমন জারির আবেদন করা হয়েছে। অপর আসামি শুভ জামিনে রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় হত্যাচেষ্টাসহ চারটি মামলা রয়েছে। শুভর নামেও দুটি পুরোনো মামলা আছে। তবে এগুলোর নিষ্পত্তি সম্পর্কে অভিযোগপত্রে কিছু জানানো হয়নি।
অভিযোগ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান আসামি মনিরুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে তদন্ত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে একপেশে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য, তিনি কাউকে হুমকি দেননি এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য আদালতে যাবেন।
ঘটনার পর ওই ছাত্রী থানায় গেলে সেখানে তাকে হেনস্তা করার অভিযোগও রয়েছে। ওই সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিলে পুলিশ তাকে ডেকে এনে মামলা নেয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু করা হয়।




