সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির মা সোমবার বিকেল পাঁচটায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিশুটির পাশের বাড়ির বাসিন্দা। তাকে আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা নাগাদ শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। সেই সুযোগে পাশের বাড়ির কিশোর তাকে পেয়ারা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশীর একটি নির্জন বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়। শিশুটি আর্তনাদ করলে অভিযুক্ত তাকে ছাদ থেকে নিচে নামিয়ে আনে। সে সময় শিশুটির চাচি সেখানে এলে কিশোরটি পালিয়ে যায়।
রক্তক্ষরণ ও অসহ্য ব্যথায় শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে পরিবার তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুদেষ্ণা সরকার জানান, শিশুটির দেহে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। চারটি সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান কামরুন নাহার জানান, শিশুটির চিকিৎসা চলছে। এই মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আরও কয়েকদিন চিকিৎসার পর জানা যাবে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন কিনা।
শিশুটির মা বলেন, তার মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া এবং ঘটনার পর থেকে ভীষণ ভয় পেয়ে আছে। তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। থানার উপপরিদর্শক প্রদীপ কুমার ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। মামলার বয়স বিবেচনায় শিশুটি নাবালিকা হওয়ায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার আশা প্রকাশ করেন আইনজীবীরা।
পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহল অপরাধীর দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।



