ঢাকার একটি আদালত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করে।

বিকেল চারটার দিকে ডিবির একটি সাদা গাড়িতে করে তাকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে হাজতখানা থেকে এজলাস কক্ষে নেওয়া হয়। সে সময় তাঁর হাতে হাতকড়া, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট ছিল। কাঠগড়ায় তোলার পর পুলিশ হাতকড়া ও হেলমেট খুলে নেয়।

গত রোববার রাতে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ঢাকার উত্তরায় পশ্চিম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের জন্য এই ব্যক্তি আলোচিত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের প্রমাণ মিলেছে। তাঁর নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসেবে বিপুল অঙ্কের লেনদেনও ধরা পড়েছে। অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায় আদালতকে জানান, এটি ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টির পরিকল্পনা ও ধর্মীয় কাজে বাধা দেওয়ার অংশ। তাঁর মক্কেল একটি মন্দির নির্মাণ করেছেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রার্থনা করেন। বড় মন্দির বানানো অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন যে অর্থপাচারের কোনো প্রমাণ ছাড়াই ভুয়া মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির হোসেন আসামিপক্ষের এ বক্তব্য মিথ্যা ও মনগড়া বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও বিস্তারিত তথ্য পেতে রিমান্ড অপরিহার্য।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি হরিদাস চন্দ্র আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজেও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আগে কৃষিকাজ করতেন, এখন মন্দির পরিচালনা করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো ভক্ত যদি ভগবানের সেবায় অর্থ দেয়, তাহলে সেটি দোষ কী? নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি অর্থ পাচার অস্বীকার করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাল্টা বলেন, ধর্মের আড়ালে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং এর পেছনে বাইরের কোনো সংস্থা জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর বিচারক চার দিনের রিমান্ডের নির্দেশ দেন।