মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের ভেতরে থাকা অবস্থায় আসল ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আদলে নকল নেটওয়ার্ক তৈরি করে সন্দেহের জন্ম দিলেন এক যাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার, যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস থেকে আটলান্টাগামী ডেল্টা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির জন্য সাইবার অপরাধীরা প্রায়শই 'ম্যান-ইন-দ্য-মিডল' হামলা চালায়। এই কৌশলে ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও আসল নেটওয়ার্কের নামের সাথে মিলিয়ে নকল নেটওয়ার্ক তৈরি করার প্রবণতাও লক্ষণীয়। রেস্তোরাঁ, হোটেল, বিমানবন্দর বা শপিং মলে এমন ঘটনা আগেও দেখা গেছে, তবে এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো উড়োজাহাজের আকাশপথও।
ডেল্টা এয়ারলাইনসের মুখপাত্র মরগ্যান ডুরান্ট প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চকে জানিয়েছেন, ঘটনার ফলে উড়োজাহাজের নিরাপত্তায় কোনো হুমকি তৈরি হয়নি। উড়োজাহাজের কোনো পরিচালনব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, এমনকি নিজস্ব ওয়াইফাই নেটওয়ার্কেও কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেনি। নকল নেটওয়ার্কের বিষয়টি টের পাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য উড়োজাহাজের ওয়াইফাই পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। পাইলটরা উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
তবে নকল নেটওয়ার্ক তৈরির পেছনে আসলে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও রহস্যই থেকে গেছে। উড়োজাহাজের ভেতরে কীভাবে এই নকল নেটওয়ার্ক চালু করা হলো এবং তার মাধ্যমে কোনো তথ্য চুরির চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পেশাদার সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষকরা প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা যাচাই করতে এমন যন্ত্র ব্যবহার করেন; তবে কৌতূহল বা শেখার উদ্দেশ্যেও কেউ কেউ এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র স্টিভ কালম বলেছেন, এ ঘটনা নিয়ে তাদের কাছে কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। একইসাথে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলাকালীন এই ঘটনাটি উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।




