চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং সম্প্রতি এক বিশাল অর্থায়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, কোম্পানির গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) গুলোকে দীর্ঘমেয়াদী জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের ওপর— সময়ের সাথে সাথে এই চিপগুলোর মূল্য কত দ্রুত কমবে? বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনের গতি এত দ্রুত যে আজকের সবচেয়ে শক্তিশালী চিপও কয়েক বছরের মধ্যে সেকেলে হয়ে যেতে পারে, যা জামানতের মূল্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।
বিশেষ করে চীনের বাজার এই পরিকল্পনার জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে চীনে এনভিডিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী চিপ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিকল্প প্রযুক্তি বা স্থানীয়ভাবে তৈরি চিপের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, যদি চীনের বাজার সম্পূর্ণরূপে এনভিডিয়ার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী জিপিইউর চাহিদা এবং এর পুনর্বিক্রয় মূল্য উভয়েই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদ এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুয়াংয়ের এই পরিকল্পনা মৌলিকভাবে একটি বাজি— যে জিপিইউ আগামী কয়েক বছর ধরে তার মূল্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে। অথচ প্রযুক্তি খাতের ইতিহাস বলছে, হার্ডওয়্যারের মূল্য সাধারণত দ্রুত হ্রাস পায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করতে পারে। ফলে ব্যাংকগুলো যদি এই চিপগুলিকে জামানত হিসেবে গ্রহণ করে, তবে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
তবে হুয়াংয়ের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই চিপগুলির ব্যবহার এবং মূল্যকে দীর্ঘ সময় ধরে টিকিয়ে রাখবে। তাঁর মতে, শুধুমাত্র ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউড কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠানই নয়, ভবিষ্যতে বিভিন্ন শিল্পখাতও এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে, যা জিপিইউর চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেবে। এই আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি অংশ মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে চীন-মার্কিন প্রযুক্তি যুদ্ধ, এই খাতের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।




