বিশ্বের ডেটা ট্রাফিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে এক নতুন অবকাঠামো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে প্রবাহিত ডেটা এবং টেলিযোগাযোগ ট্রাফিকের ৯০ শতাংশের বেশি মিশরের মধ্য দিয়ে এবং লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত সাবমেরিন কেবল করিডোর ব্যবহার করে। ফলে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিকল্প পথ নির্মাণের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার নিজ নিজ ডেটা হাইওয়ে নির্মাণে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কাতারভিত্তিক টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ওরেদুর 'ফাইবার ইন দ্য গালফ' (এফআইজি) ব্যবস্থা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাবমেরিন কেবল প্রকল্প হিসেবে গড়ে তুলছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে এই প্রকল্পের, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ডলার। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই কেবল ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সুয়েজ খাল ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালী এড়িয়ে যাবে এবং ইরাকসহ ছয়টি জিসিসি রাষ্ট্রকে সংযুক্ত করবে।
ওরেদু গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আজিজ আলুতমান ফাখরু জানিয়েছেন, ইরানের যুদ্ধ এফআইজি প্রকল্পের যৌক্তিকতাকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে। তবে এই প্রকল্পের সামনে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এফআইজির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু ফাখরু স্বীকার করেছেন যে বর্তমানে তারা সেই প্রণালীর ভেতরে কেবল স্থাপনের জাহাজ পাঠাতে পারছেন না।
দীর্ঘমেয়াদে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে — চলমান যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং তার বাইরে নির্মীয়মাণ এই ডিজিটাল মহাসড়কগুলোর কার্যকারিতাকে কতটা হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এদিকে, ওরেদু সম্প্রতি এনভিডিয়া ও নকিয়ার সাথে যৌথভাবে ইন্দোনেশিয়ায় বহু বিলিয়ন ডলারের একটি এআই কম্পিউট ও নিও-ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম চালু করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওরেদু তার ভৌগোলিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের মূল বাজার ছাড়িয়ে বিস্তৃত করছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গভীরভাবে প্রবেশ করছে, যেখানে এআই গ্রহণের গতি বিশ্বব্যাপী গড়ের চেয়ে বেশি।
এই সপ্তাহে দুবাইয়ের একটি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ইরানের ৪ বিলিয়ন ডলারের নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ-তেল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) জাহাজ পরিবহন শাখা লজিস্টিকস অ্যান্ড সার্ভিসেসের মুনাফা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কোম্পানিটি আবারও তাদের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।




