বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর আত্মবিশ্বাস ও মনোবল গড়ে তুলতে শৈশবকাল থেকেই খেলাধুলা, শিক্ষা ও মেন্টরশিপের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে। জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ পরিচালিত ‘দ্য কনফিডেন্ট পাথওয়েজ’ শীর্ষক এই গবেষণায় আত্মবিশ্বাস গঠনের বিভিন্ন দিক এবং তা ধরে রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও মেক্সিকোর মানুষের ওপর চালানো জরিপের ফলাফল এই গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত। জরিপে দেখা যায়, শৈশবে খেলাধুলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ মনে করেন এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, খেলাধুলা তাদের অধ্যবসায় বা ধৈর্যশীলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে। শুধু তাই নয়, যারা সঞ্চয় বা জীবন বিমার মতো আর্থিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন, তারা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্য ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি আত্মবিশ্বাসী হন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম মনে করলেও বাস্তবে সংকট দেখা দিলে তাদের আস্থা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে ৭২ শতাংশ হ্রাস পায়। এ প্রসঙ্গে গবেষণায় বলা হয়, আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠা এবং তা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ধরে রাখতে প্রস্তুতি ও সহায়ক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উপাদানগুলো মানুষকে অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, যে কোনো বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে।
সামাজিক সমর্থনের বিষয়টিও গবেষণায় স্থান পেয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ মানুষ বন্ধুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পান বলে জানিয়েছেন। আর নিজ নিজ কমিউনিটির পক্ষ থেকে সমর্থন পান বলে মনে করেন মাত্র ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা। তাই গবেষণায় শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন ও সহায়ক কমিউনিটি তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়াও গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরা খেলাধুলা ও মেন্টরশিপভিত্তিক কর্মসূচির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
গবেষণা প্রসঙ্গে মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের মতো আয়োজন বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করে, যা তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ তরুণ হওয়ায় কম বয়স থেকেই তাদের জন্য খেলাধুলা, শিক্ষা ও মেন্টরশিপের সুযোগ তৈরি করা বিশেষ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি তরুণ-তরুণী রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। গবেষণায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও শিক্ষার পাশাপাশি মেন্টরশিপের ভূমিকাও অপরিসীম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।




