ভাইরাসজনিত রোগ যেমন হাম ও চিকেন পক্সে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত আরোগ্য লাভে চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে হামের সংক্রমণ এখনো কমেনি; বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমিত হয়। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, শরীরে র্যাশ, ক্ষুধামন্দা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ শিশুকে পানিশূন্যতা ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে ফেলে।
পুষ্টিবিদ ফারজানা ওয়াহাবের মতে, সঠিক খাবার নির্বাচন রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং জটিলতা এড়াতে সহায়তা করে। তিনি বলেন, "এই সময় সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো উচিত।" জ্বরের কারণে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়, তাই রোগীকে বারবার পানি ও তরল খাবার দিতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ওরস্যালাইন, স্যুপ, ভাতের মাড় ও পাতলা খিচুড়ি শরীর ঠান্ডা ও শক্তি ফেরাতে সাহায্য করে।
চিকেন পক্সে মুখে ঘা হতে পারে, ফলে খাবার গিলতে কষ্ট হয়। সে ক্ষেত্রে ঠান্ডা দুধ, দই, কাস্টার্ড, পুডিং, সুজি, কলা ও নরম খিচুড়ি খাওয়ানো ভালো। এগুলো গলায় আরাম দেয় এবং সহজে খাওয়া যায়। ক্ষুধা না থাকলে অল্প অল্প করে বারবার খাবার দিন। ফলের স্মুদি, দুধ, পুডিং, স্যুপ ও দই ভালো বিকল্প। দুর্বলতা কাটাতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, দুধ, আলু ও খিচুড়ি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
চিকেন পক্সে চুলকানি কমাতে ডাবের পানি, শসা, তরমুজ ও দই খাওয়ানো উপকারী। তবে ঝাল, ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। ডায়রিয়া বা বমি হলে ওরস্যালাইন, ভাত, কলা, আলু ও স্যুপ দিন; তেল ও মসলাযুক্ত খাবার বাদ দিন। রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। জ্বর বেশি হলে বা পানি কম খেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নখ ছোট রাখতে হবে, যাতে চুলকানিতে ঘষা না লাগে। পুষ্টিবিদ ফারজানা ওয়াহাব আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের সাথে যুক্ত।




