সচেতনতাই মাকড়সার কামড় থেকে বাঁচার মূল চাবিকাঠি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বেশিরভাগ মাকড়সাই মানুষের জন্য হুমকি নয়। সাধারণত কামড়ের ফলে হালকা ব্যথা, চুলকানি ও লালচে দাগ দেখা দেয় যা কয়েকদিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। কিন্তু ব্ল্যাক উইডো এবং ব্রাউন রিক্লুজের মতো কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মাকড়সা যথেষ্ট বিষধর। তাদের কামড়ে বিরল হলেও মারাত্মক শারীরিক জটিলতা বা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।
বিষধর মাকড়সার আক্রমণের পরে আক্রান্ত স্থানে তীব্র জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনুভূত হয়। সেইসঙ্গে দ্রুত ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। মাংসপেশিতে টান লাগা, বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গও দেখা যায়। এরকম কোনো গুরুতর লক্ষণ প্রকাশ পেলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আবশ্যক। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা প্রাণরক্ষা করতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কামড়ানো স্থানটি ভালোভাবে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা উচিত। ফোলা ও যন্ত্রণা কমাতে কাপড়ে মোড়ানো বরফ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে। মাকড়সাটি শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসকের কাজ সহজ হয়। তাই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সম্ভব হলে তার ছবি তোলার চেষ্টা করা ভালো। শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া বা রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে অ্যান্টিভেনম বা অন্যান্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মাকড়সার কামড় এড়ানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো সতর্ক থাকা। ঘরবাড়ি সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। মাকড়সা লুকিয়ে থাকতে পারে এমন পুরোনো আসবাব, জুতা, গুদামঘর বা স্টোররুম পরিষ্কার করার সময় গ্লাভস ব্যবহার করা নিরাপদ। অন্ধকার বা কম ব্যবহার হয় এমন জায়গায় হাত দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। এসব ছোটখাটো সতর্কতা মেনে চললেই সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে দূরে থাকা সম্ভব।




