আর্জেন্টিনা ও লিভারপুলের মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার সম্প্রতি দ্য প্লেয়ারস ট্রিবিউনে একটি ব্যক্তিগত নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি তাঁর ফুটবল জীবন ও মানসিক শক্তির নানা দিক তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের অদম্য মনোভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নিবন্ধে ম্যাক অ্যালিস্টার স্বীকার করেছেন, ২০২০ সালে ব্রাইটনে যোগ দেওয়ার পর তিনি তীব্র একাকীত্ব ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। ইংল্যান্ডে নতুন পরিবেশ ও ভাষাগত বাধা তাকে ভেঙে পড়তে বাধ্য করেছিল। একপর্যায়ে তিনি ক্লাব ছেড়ে রাশিয়া বা স্পেনে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু তাঁর মা ফেসটাইমে তাকে শৈশবের ফুটবল পাগলামির কথা মনে করিয়ে দেন। সেই স্মৃতি ও মায়ের কথায় তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি পান।

ম্যাক অ্যালিস্টারের বাবা, যিনি নিজে ফুটবলার ছিলেন, তাকে পরিসংখ্যান দেখিয়ে বোঝান যে প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেললে তিনি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন। প্রথমে সেটি অসম্ভব মনে হলেও পরে সত্যি সেটাই ঘটে। ব্রাইটনে মূল একাদশে জায়গা করে নেওয়ার পর তিনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পান।

২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের পর দলের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। ম্যাক অ্যালিস্টার লিখেছেন, সেই সময় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁর কথায় দল আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে ডাকলেও শেষ পর্যন্ত পেছনের খেলোয়াড়কে মাঠে নামান, যা নিয়ে তিনি লজ্জা বোধ করেছিলেন। তাঁর পরিবার ডাগআউটের পেছনে বসে তা প্রত্যক্ষ করে।

ম্যাক অ্যালিস্টারের মতে, কষ্ট সহ্য করাটাই আর্জেন্টাইনদের স্বভাব। এটা তাদের ডিএনএ-তে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সহজ পথে হাঁটতে পছন্দ করি না। জিততে চাইলেও কষ্ট বরণ করাটা শিখতে চাই। এটাই আমাদের সৌন্দর্য।’ নিবন্ধে তিনি তাঁর শৈশবের ফুটবল পাগলামি ও বাবার সঙ্গে চুক্তির কথাও স্মরণ করেন। মায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মা না থাকলে আজ এ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। এই মানসিকতাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।